Mumbai Police bangla subtitle

Mumbai Police bangla subtitle

মুম্বাই পুলিশ মুভির বাংলা সাবটাইটেল (Mumbai Police bangla subtitle) তৈরি করেছেন মুহাম্মদ ইউনুস।

মুভি রিভিউঃ ২০১৩ সালে রিলিজ করা ফিল্ম “মুম্বাই পুলিশ” মালায়ালাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তথা গোটা দেশের সমস্ত ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে নিঃসন্দেহে একটি উল্লেখযোগ্য থ্রিলার ফিল্ম।মুখ্য অভিনেতা পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের ওই বছরই আরেকটি দুর্ধর্ষ থ্রিলার রিলিজ করেছিল,,,নাম “মেমোরিজ”!দুটি ফিল্মের মধ্যে তুলনা এসে যাওয়াটা স্বাভাবিক।কারণ এক ইন্ডাস্ট্রি,এক ঘরানা,এক অভিনেতা ও সর্বোপরি এক বছরেই রিলিজ করা ফিল্ম বলে।থ্রিল ফ্যাক্টর বিচার করলে এগিয়ে থাকবে ” মেমোরিজ” কিন্তু সারপ্রাইজ এলিমেন্টস,টুইস্ট আর অবশ্যই একটি থ্রিলার ফিল্মের নিরিখে একদম না দেখতে পাওয়া ফ্যাক্টর “ইমোশানাল কোশেন্ট” বিচার করলে আপনার পছন্দ হবে “মুম্বাই পুলিশ”।

তুলনামূলক আলোচনা সরিয়ে রেখে আসুন একবার চোখ বুলিয়ে নিই ” মুম্বাই পুলিশ” এর স্টোরিলাইনে।কোচি পুলিশের নির্ভরযোগ্য ও সাহসিকতার জন্য সদ্য প্রেসিডেন্ট মেডেলপ্রাপ্ত এসিপি আরিয়ান জন জেকব এর আকস্মিক হত্যাকান্ডের তদন্তভার এসে পড়ে ওনারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী আরেক এসিপি অ্যান্টনি মোজেসের উপর।এই তদন্তের জাল গুটিয়ে আনার একদম শেষ ধাপেই হঠাৎ এক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন অ্যান্টনি।প্রাণে বাঁচলেও স্মৃতির বন্ধ দরজার ওপারে আটকে পড়ে হাঁসফাঁস করতে থাকেন অ্যান্টনি।তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেন কমিশানার ফারহান আমন যিনি সম্পর্কে অ্যান্টনির ভগ্নীপতি হন।

গোটা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের বিরুদ্ধে গিয়ে তিনি আপাত অসুস্থ অ্যান্টনিকেই দায়িত্ব দেন এই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।স্মৃতি বিভ্রমের শিকার অ্যান্টনি কিভাবে এই জটিল রহস্যের কিনারা করেন ও বন্ধু আরিয়ানের খুনীকে পাকড়াও করেন সেটাই এই ছবির মূল বিষয়বস্তু। ঘটনা বা দুর্ঘটনা যাই বলুন না কেন,,সবকিছু কোচি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট নিয়ে তাও ছবির নাম মুম্বাই পুলিশ কেন??সেটা ফিল্মটি দেখলেই বুঝতে পারবেন,,,আমি আর ভাঙছিনা সেটা।রোশন অ্যান্ড্রুজ পরিচালিত এই ফিল্মের সম্পদ story telling এর কায়দা।নন লিনিয়ার ভঙ্গীতে টাইম ফ্রেমকে এগিয়ে পিছিয়ে পরিচালক দক্ষতার সাথে গল্পটি আমাদের সামনে উপস্থাপনা করেছেন।

কিছু কিছু জায়গায় এক দৃশ্যের বার বার পুনঃনির্মান করা হলেও সেটা গল্পের খাতিরেই করা হয়েছে।যেটা আগে বলেছি,,”মেমোরিজ” এর তুলনায় থ্রিল কিছুটা কম হলেও সেটা সুদে আসলে মিটিয়ে দিয়েছেন পরিচালক শেষ আধ ঘন্টায়।বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যেতে হয় ছবির শেষটুকু দেখলে।পাশাপাশি এই ছবির আরেক বৈশিষ্ট্য Human relationships বিশেষ করে দুই বন্ধুর আবেগপূর্ণ আখ্যানের উপস্থাপন।একটা থ্রিলার ফিল্মে যেটা সাধারণত বিরল একটা aspect..।আপাতদৃষ্টিতে একমাত্র যে লুপহোলস রয়েছে গোটা ফিল্মে সেটার উল্লেখ করা আমার পক্ষে অসম্ভব,,কারণ সেক্ষেত্রে স্পয়লার হয়ে যাবে। অভিনয় প্রসঙ্গে এলে বলতেই হয় মালায়ালাম ইন্ডাস্ট্রির সুপারস্টার পৃথ্বীরাজ সুকুমারনের অসাধারণ অভিনয় সমৃদ্ধ এই ফিল্ম।গোটা ছবি জুড়ে অ্যান্টনি রূপী পৃথ্বীরাজ আর পৃথ্বীরাজ শুধু!

অ্যাক্সিডেন্টের আগে ডাকাবুকো এসিপি অ্যান্টনি আর অ্যাক্সিডেন্টের পরে স্মৃতিভ্রষ্ট কিন্তু জীবনের পুরনো ছন্দে ফিরতে আকুল অ্যান্টনির দুই বৈপরীত্যময় চরিত্রে অসামান্য অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।পাশাপাশি ঘনিষ্ঠ বন্ধু তথা সহকর্মীর খুনীকে ধরতে ব্যাকুল অ্যান্টনির মানসিক টানাপোড়েন দারুণভাবে তুলে ধরেছেন পৃথ্বীরাজ।কমিশানার ফারহানের চরিত্রে স্বভাবসিদ্ধ আন্ডার অ্যাক্টিং করে মাতিয়ে দিয়েছেন রহমান।২০১৬ সালের তামিল থ্রিলার ফিল্ম “ধ্রুভাঙ্গাল পাথিনারু” আমার আরেকটি পছন্দের সিনেমা।

ওই সিনেমাটি দেখেই রহমানের ফ্যান হয়ে পড়েছিলাম।এই ফিল্মেও দেখলাম অভিনয়ের সেই ধারা বজায় রেখেছেন রহমান সাহেব।আরিয়ানের ভূমিকায় জয়সূর্য্য যথাযথ অভিনয় করেছেন।বাদবাকি সাপোর্টিং কাস্ট ও ঠিকঠাক কাজ করেছেন।ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর মন্দ নয়। এই মুহুর্তে থ্রিলার ফিল্মের নিরিখে দক্ষিনী ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে অন্যতম সেরা ইন্ডাস্ট্রি মালায়ালাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।২০১৯-২০ সালে প্রচুর ভাল ভাল থ্রিলার ছবি উপহার দিয়েছেন ওনারা।কিন্তু আজ থেকে ৮ বছর আগেই একটা অন্যতম রত্ন উপহার দিয়েছিল মালায়ালাম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি,,,,যার নাম “মুম্বাই পুলিশ”!


Mumbai Police bangla subtitle download

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *